সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের দামে আরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছিল।
সকাল সাড়ে ৮টার বাজারচিত্র অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ০৩ ডলারে পৌঁছেছে। তবে একই সময়ে মারবান ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৩০ ডলারে নেমেছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৯২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম জুলাইয়ের পর থেকে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক বৃদ্ধি দেখেছে। ওই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দামে অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম যুক্ত হচ্ছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এ চাপ আরও বাড়তে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচলও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট সময়ে মাত্র চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে। অথচ সাধারণ সময়ে ১০ দিনের গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩টি জাহাজ এ পথ অতিক্রম করে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এক দিনে সর্বোচ্চ ১৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ঝুঁকির প্রভাব ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামের ব্যবধানেও দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড ডব্লিউটিআইয়ের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৪ দশমিক ৬৬ ডলার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দামের ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামেও নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।